
ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে ব্যক্তিগত রুচি ও খাদ্যাভ্যাস সবসময়ই রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকেছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে রাজ্য রাজনীতিতে ‘বিরিয়ানি’ ইস্যু নিয়ে যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে, তাতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। একদিকে যেমন নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের দোকান থেকে বিরিয়ানি না খাওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি, অন্যদিকে তাঁরই পুরনো কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অস্বস্তি।
সম্প্রতি কৌস্তভ বাগচী অত্যন্ত চড়া সুরে মুসলিম মালিকানাধীন দোকান থেকে বিরিয়ানি বর্জনের ডাক দেন। এই ধরনের মন্তব্যকে অনেকেই ‘বিষাক্ত’ এবং ‘বিভাজনমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে বিতর্কের আসল মোড় ঘোরে যখন তাঁরই ফেসবুক প্রোফাইলের পুরনো কিছু মন্তব্য সামনে আসে।
বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে কৌস্তভ বাগচী দিল্লির বিখ্যাত ‘করিমস’ (Karim’s) হোটেলের খাবারের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। ভাইরাল হওয়া সেই স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে:
- তিনি করিমসের ‘মাটন কোরমা’ (Mutton Korma) এবং ‘নিহারি’ (Nihari)-কে অত্যন্ত সুস্বাদু বলে বর্ণনা করেছেন।
- তিনি সেখানে গত দশ বছর ধরে নিয়মিত যাতায়াত করেন বলেও জানান।
- এছাড়াও ‘কুল পয়েন্ট’ দোকানের রাবড়ি ও শাহি টুকরা নিয়েও তাঁর ইতিবাচক মন্তব্য পাওয়া গেছে।
এই স্ববিরোধিতা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষসহ বিরোধী শিবির একে ‘সেমসাইড গোল’ হিসেবে অভিহিত করে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না।
ভারতীয় সংবিধান সার্বভৌমত্ব ও ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা বলে। ‘আপ রুচি খানা’—এই প্রবাদটি আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনো রাজনৈতিক দল বা ফতোয়া কারো ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করে দেবে, তা সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় ভাবাবেগকে উসকে দিয়ে এ ধরনের প্রচার মূলত নজর ঘোরানোর চেষ্টা।
রাজতন্ত্র নয়, বরং গণতান্ত্রিক দেশে জননেতাদের বক্তব্য ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা বাঞ্ছনীয়। নিজের পছন্দের তালিকায় যে খাবার দীর্ঘ এক দশক ধরে জায়গা করে নিয়েছে, রাজনীতির আঙিনায় এসে তাকেই বর্জনের ডাক দেওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মনে।
খাদ্য বা পোশাকের মতো ব্যক্তিগত বিষয়কে যখন ধর্মের চশমায় দেখা হয়, তখন তা কেবল বিতর্কই বাড়ায় না, বরং সমাজের বহুত্ববাদী কাঠামোকেও আঘাত করে। কৌস্তভ বাগচীর এই অবস্থান বদল বা পুরনো পছন্দের কথা প্রকাশ্যে আসায় এখন তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাই চ্যালেঞ্জের মুখে।।
