
বৃহস্পতিবার সকালে ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে একযোগে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সল্টলেকের আই-প্যাক অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে শুরু হয় তল্লাশি। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির একটি পুরনো কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান।
ইডি হানার খবর ছড়াতেই কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। বেশ কিছুক্ষণ ভেতরে থাকার পর হাতে সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। বাইরে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের সামনে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার এবং ইডির ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, হার্ড ডিস্ক সহ দলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়াই ইডির মূল লক্ষ্য। সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নটি হোম মিনিস্টার, ন্যাসটি হোম মিনিস্টার যিনি দেশকে রক্ষা করতে পারেন না।” প্রশ্ন তোলেন, “এটাই কি ইডি আর অমিত শাহর ডিউটি?”
তিনি আরও বলেন, যদি বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়, তাহলে কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে এসআইআর (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) ইস্যুতেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর নামে বাংলার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, প্রায় ২ কোটি মানুষের মধ্যে দেড় কোটি মানুষকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, যা নজিরবিহীন।
ইডি হানা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ কমিশনারের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজ্যে ভয় দেখানোর রাজনীতি করছে বিজেপি। ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য রাজনীতি আরও সংঘাতময় হয়ে উঠল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
