
মঙ্গলবার বিকেলে আইপ্যাকের অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) হানা দেয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সল্টলেকের আইপ্যাক অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয়ার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৎক্ষণাৎ সেক্টর ফাইভের অফিসে পৌঁছে সাংবাদিকদের সামনে কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে মিছিল করার ঘোষণা দেন। মমতা বলেন, “আজ বিকাল ৪টা থেকে সব ব্লক ও ওয়ার্ডে প্রতিবাদ মিছিল হবে। বিজেপির এই চুরি-ডাকাতি-লুটের বিরুদ্ধে মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখাবে। যদি বাংলার মানুষকে বিরক্ত করা হয়, তবে গোটা দেশ বিরক্ত হবে।”
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও আইপ্যাক হানার প্রসঙ্গে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “মানুষ উপযুক্ত জবাব দেবে। অভিষেক জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাই ব্যস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। SIR-এর মাধ্যমে আবারও ইডি ও সিবিআই পাঠানো হচ্ছে। এভাবে সব রাজ্যে অবিজেপি সংস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।”
ইডি হানা মূলত দিল্লিতে কয়লা দুর্নীতি মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। হানার সময় লাউডন স্ট্রিটের প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে মোটা ফাইল বের করা হয়। মমতা হানার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সকল কার্যক্রম নজরদারি করেছেন।
রাজ্য জুড়ে এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করেছে, আর রাজ্যের বিভিন্ন অংশে প্রতিবাদ মিছিল ও জনসভা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বাভাস হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। নির্বাচন প্রায় ঘনিয়ে আসায় ইডি-র হানার প্রতিক্রিয়া রাজ্যবাসীর মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
