
কলকাতা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬: দিল্লি থেকে আগত ইডি টিম আই-প্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের অফিস ও বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলাকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত সল্টলেকের সেক্টর-ফাইভে আই-প্যাকের অফিসে পৌঁছান। এসময় তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন ফাইল ও নথি পর্যালোচনা করেছেন। ইডি ফরেনসিক টিম ল্যাপটপ, মোবাইল এবং পার্টির যাবতীয় নথি সংগ্রহ করেছে। মমতা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের কৌশলগত নথি এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতীক না আসা পর্যন্ত আমি এখানেই অপেক্ষা করব। আমাদের দলের কাগজ ও ডেটা তোলা হয়েছে, কিন্তু বিজেপির কোনো অফিসার আটক হয়নি।” তিনি এও উল্লেখ করেন, এই অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিকেল ৪টায় রাজ্যের সব ব্লক ও ওয়ার্ডে মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আই-প্যাক অফিসে পৌঁছানো সিআরপিএফ বাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনা দেখা দেয়। অফিস থেকে কিছু ফাইল সরানো হয়েছিল, যা ডিপার্টমেন্ট অফ ইয়ুথ সার্ভিসের নথি বলে জানা গেছে। ডিজি রাজীব কুমার, পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা এবং অন্যান্য শীর্ষ অফিসাররা ঘটনাস্থলে ছিলেন।
একই সঙ্গে, এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার প্রসূন মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর পুত্র রণজিৎকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি নেতা-নেত্রীরা জেলায়-জেলায় ভোট প্রচারে সক্রিয়। তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদাররা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সভা করছেন।
এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, সমস্ত দলীয় তথ্যের অবৈধ তল্লাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরিস্থিতি এখন নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
