
দিল্লির নর্থ ব্লকের সামনে তৃণমূল সাংসদদের হেনস্তার ঘটনায় এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হলেন সাংসদ শতাব্দী রায়। Jazzbaat24 Bangla এর সাংবাদিককে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বাধা দিয়ে পুলিশ তাঁদের ওপর ক্ষমতার আস্ফালন দেখিয়েছে।
শতাব্দী রায় জানান, শুক্রবার সকালে তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দপ্তরের সামনে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ধরনায় বসেছিলেন। আই-প্যাকের দপ্তরে ইডি অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। কিন্তু দিল্লি পুলিশ তাঁদের প্রতি যে আচরণ করেছে, তাকে ‘মর্যাদাহানিকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সাংসদ বলেন, “আমরা বারবার পুলিশকে বলেছিলাম যে আমরা হেঁটে যাচ্ছি, আমাদের ওপর বলপ্রয়োগ করার প্রয়োজন নেই। তা সত্ত্বেও তারা আমাদের গায়ে হাত দিয়েছে, জোর-জবরদস্তি করে টানাটানি করেছে এবং কার্যত চ্যাংদোলা করে থানায় নিয়ে এসেছে।” শতাব্দী রায়ের অভিযোগ, শুধু তাঁর সঙ্গেই নয়, ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্রর মতো প্রবীণ ও প্রভাবশালী সাংসদদের সাথেও একই ধরনের অমানবিক আচরণ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে শতাব্দী রায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, নির্বাচনের আগে এজেন্সির অপব্যবহার এবং বিরোধীদের হেনস্তা করা বিজেপির পুরনো অভ্যাস। তাঁর মতে, বিজেপি গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করতে ভয় পায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন তারা নিরপেক্ষ ভোটের পথে না গিয়ে বারবার এই ধরনের দমনমূলক কাজ করে? প্রার্থী দিক, লড়াই হোক মাঠে—সেটা না করে এজেন্সি লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন?”
দিল্লির এই সংঘাতের রেশ যে বাংলার আসন্ন নির্বাচনে পড়বে, শতাব্দী রায় তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ এই অপমান ভুলে যাবে না। বিজেপির এই ‘ক্ষমতার আস্ফালন’ এবং বাংলার প্রতিনিধিদের প্রতি অশ্রদ্ধার জবাব সাধারণ মানুষ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ব্যালট বাক্সে দেবে। শতাব্দী রায়ের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, দিল্লিতে সাংসদদের গায়ে হাত দেওয়া মানে আসলে বাংলার কোটি কোটি মানুষের আবেগে আঘাত করা। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার এই লড়াই আগামী দিনে আরও বড় আকার নেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।।
