
ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশের কাছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বিক্রির অনুমতি মিললে তারা সেই তেল কেনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল পরিশোধন পরিকাঠামো পরিচালনাকারী এই সংস্থার বক্তব্য, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত স্পষ্টতা এলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রিলায়েন্সের মুখপাত্রের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল অ-মার্কিন ক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে এখনও সবুজ সংকেত মেলেনি। তবে অনুমতি এলে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হলে তেল আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পমহলের সূত্র জানাচ্ছে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি) ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (এইচপিসিএল)ও একইভাবে অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালে মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল কেনা দেশগুলোর উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা করার পর রিলায়েন্স সেই দেশ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়। শেষবার তারা ভেনেজুয়েলার তেলের চালান পেয়েছিল ২০২৫ সালের মে মাসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে একটি সমঝোতার ফলে সীমিত পরিমাণে ভেনেজুয়েলার তেল রফতানির পথ খুলেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন হিসাবনিকাশ শুরু করেছে।
গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্সের দুটি শোধনাগারের দৈনিক সম্মিলিত ক্ষমতা প্রায় ১৪ লক্ষ ব্যারেল। এই পরিকাঠামো তুলনামূলক ভারী ও সস্তা অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের জন্য উপযুক্ত, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলার ‘মেরেই’ ক্রুডও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল আবার বাজারে এলে তা রুশ তেলের বিকল্প হিসেবে ভারতের কাছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর রুশ তেল আমদানিকে ঘিরে পশ্চিমী চাপ বাড়ায় ভারতীয় রিফাইনারিগুলি কৌশল বদলাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার তেলের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও খরচ নিয়ন্ত্রণে নতুন দিশা দেখাতে পারে বলেই মনে করছে বাজার।
