
কলকাতার আই-প্যাক অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র অভিযানের প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই ইস্যুতে সরাসরি টিএমসি-কে নিশানা করে তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইডি অভিযানের সময় প্রতিবাদে নামলেও বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর ভিনরাজ্যে হামলার ঘটনায় তৃণমূল বরাবর নীরব থেকেছে।
শুক্রবার এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধীর চৌধুরী বলেন, যখন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করতে গিয়ে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তখন সংসদের ভিতরে বা বাইরে টিএমসি সাংসদদের কোনও প্রতিবাদ দেখা যায়নি। বহু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অথচ ইডি কোনও পদক্ষেপ নিলেই তৃণমূল রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে—এটিকে তিনি ‘নির্বাচনী সুবিধা আদায়ের কৌশল’ বলে উল্লেখ করেন।
অধীরের কথায়, “ইডি ব্যবস্থা নিলে টিএমসি প্রতিবাদ করে, কিন্তু সাধারণ মানুষের সমস্যায় তারা চুপ থাকে। এটাই প্রমাণ করে, এই আন্দোলনের পিছনে আসল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক লাভ।”
উল্লেখ্য, কলকাতার আই-প্যাক অফিসে ইডি অভিযানের প্রতিবাদে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অফিসের বাইরে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন একাধিক টিএমসি সাংসদ। বিক্ষোভ চলাকালীন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়, কীর্তি আজাদ-সহ বেশ কয়েকজন সাংসদকে দিল্লি পুলিশ আটক করে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন টিএমসি নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, টিএমসি সাংসদদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচনের আগে ইডি ও সিবিআই-এর মতো সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
আই-প্যাক ইস্যু ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের মধ্যেও রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়ে উঠল।
