
প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যাক (IPAC)-এর অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তল্লাশি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে। এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ একটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে বড় প্রশ্ন তুললেন। তাঁর দাবি, এই তল্লাশির নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ওই স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, ‘দাদা’ সম্বোধন করে একজন অন্যজনকে জানাচ্ছেন যে ১৩ জন ইডি অফিসার কলকাতা যাচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে গুলশন রাই নামে এক সাইবার বিশেষজ্ঞও থাকবেন এবং সিজিও কমপ্লেক্সে একটি জরুরি বৈঠক রয়েছে। বার্তার শেষে উল্লেখ রয়েছে, বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সচিব সকেত কুমারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। যদিও ওই চ্যাটে কে কাকে বার্তা পাঠাচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয়।
এই ‘দাদা’ শব্দটিকেই কেন্দ্র করে কুণাল ঘোষের সন্দেহ। তাঁর বক্তব্য, সরকারি আধিকারিকদের সাধারণত ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করা হয় না। সেক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিকেই কি এই তথ্য জানানো হচ্ছিল? কুণালের দাবি, যদি এই চ্যাট সত্য হয়, তবে ইডি-র তল্লাশি আদৌ কতটা স্বাধীনভাবে হয়েছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। তিনি বলেন, “আইপ্যাক অফিসে তল্লাশির নামে বৃহত্তর চিত্রনাট্যের নেপথ্যকাহিনী সামনে আসছে। সত্য উদ্ঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।”
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই তদন্তকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ তুলে পথে নেমেছেন এবং বিষয়টি পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। অন্যদিকে বিজেপি এই বিতর্কে সরাসরি মন্তব্য করতে চায়নি। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, চ্যাটটি যিনি করেছেন, তিনিই এর ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।
সব মিলিয়ে ‘দাদা’ শব্দ ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক ইডি–IPAC তল্লাশিকে নতুন করে রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে। এখন দেখার, তদন্তে আদৌ কোনও নতুন তথ্য সামনে আসে কি না।
