
গুজরাটে অনুষ্ঠিত ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-এর মঞ্চ থেকে দেশের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে ঐক্যের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ‘শৌর্য যাত্রা’-র সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও দেশের একাংশ ঔপনিবেশিক মানসিকতা আঁকড়ে ধরে ভারতের গৌরবময় অতীত আড়াল করার চেষ্টা করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ভারতের প্রাচীন সভ্যতা, মন্দির সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় আক্রমণের কঠিন ইতিহাসকে বহুবার লঘু করে দেখানো হয়েছে। সোমনাথ মন্দির রক্ষায় যাঁরা লড়াই করেছিলেন, তাঁদের ত্যাগ ও অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মোদীর কথায়, পাঠ্যবইয়ে বহু হামলাকে শুধু ‘লুটপাট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ সেই সময়ের বর্বরতা, ধ্বংসযজ্ঞ ও নিপীড়নের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, স্বাধীনতার পর সর্দার বল্লভভাই পাটেল যখন সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন, তখনও নানা বাধা ও আপত্তির মুখে পড়তে হয়েছিল। ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের মন্দির পুনঃস্থাপনার অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মোদীর বক্তব্য, যারা তখন বিরোধিতা করেছিল, তারা আজও সক্রিয়, শুধু অস্ত্রের জায়গায় এসেছে ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তি।
দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভাজনের শক্তিকে পরাজিত করাই আগামী দিনের লক্ষ্য। তাঁর মতে, “গত হাজার বছরের ইতিহাস আমাদের আগামী হাজার বছরের প্রস্তুতির শিক্ষা দেয়।”
মোদী বলেন, সোমনাথ শুধু একটি মন্দির নয়, এটি ভারতের বিশ্বাস, সহিষ্ণুতা ও সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতীক। ১০২৬ সালে মাহমুদ গজনির আক্রমণের পর বহুবার ধ্বংস হলেও মানুষের বিশ্বাসে কখনও হারায়নি সোমনাথ। প্রতিবারই নতুন করে গড়ে উঠেছে এই জ্যোতির্লিঙ্গ, যা বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল উদাহরণ।
তিনি জানান, ২০২৬ সালে সোমনাথ মন্দিরের ঐতিহাসিক পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। আরব সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দির আজও ভারতের আত্মসম্মান ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা বহন করছে।
