
স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তৃণমূল সরকারকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরব ও সংস্কৃতি পুনরায় ফিরিয়ে আনার শপথ নেন। রবীন্দ্রনাথ, রামমোহন রায় ও বিবেকানন্দের মতো মহান ব্যক্তিত্বদের জন্মভূমিকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “এখন এই মাটিতে ফাইল চোর, কয়লা চোর ঘুরে বেড়াচ্ছে। সময় এসেছে বাংলার সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার। আমাদের এই ভূমিকে বিবেকানন্দের ভূমি বানাতে হবে।”
সুকান্ত মজুমদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা চালিয়ে বলেন, সরকার এই ধরনের কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে ইডির কয়লাপাচার তদন্ত এবং আইপ্যাক অফিস থেকে মমতার ফাইল উদ্ধারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জনগণকে এই ধরনের কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সরানোর আহ্বান জানান।
কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশন, বিবেকানন্দের পৈতৃক বাড়ি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিনি আরও বলেন, “আজকের দিনটি সবচেয়ে শুভ, বাংলাকে আবার সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার চেষ্টা করা উচিত। এজন্য আমাদের এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সরাতে হবে।”
বিজেপি এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও বিবেকানন্দের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং যুবকদের বাংলার সংস্কৃতি ও দেশের শক্তি রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রতি বছর ১২ জানুয়ারি জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়, যা বিবেকানন্দের জন্মদিনে উদযাপিত হয়।
সুকান্ত মজুমদারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রইল। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ও গৌরব ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে তৃণমূল সরকারকে রাজ্য থেকে সরানোই তার প্রধান উদ্দেশ্য।
এই শপথ ও বক্তব্য বাংলার রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের নাম ধরে রাজনৈতিক আক্রমণ–প্রতিরক্ষা তীব্র হচ্ছে।
