
ইরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশে বিক্ষোভ দমনের জন্য সরকার ৮৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রাখলেও জনতা রাস্তায় অব্যাহত আছে। দেশব্যাপী এই ব্ল্যাকআউটের সময় নাগরিকদের সমস্ত ডিজিটাল যোগাযোগ এবং তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
সাইবার সিকিউরিটি গবেষক নেটব্লকস জানিয়েছেন, “ইরান যখন নতুন দিনের সূচনা করছে, তখন দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ৮৪ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল সেন্সরশিপের এই পরিস্থিতি নতুন নয়।” বিক্ষোভ দমন সত্ত্বেও দেশজুড়ে শত শত শহরে মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিক্ষোভে ইতিমধ্যেই ৫৪৪ জন নিহত হয়েছে এবং ১০,৬৮১ জনেরও বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে।
বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল দেশটির খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। পরে তা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির বিরুদ্ধে রাজনীতিক ও সামাজিক ক্ষোভের রূপ নেয়। নির্বাসিত ইরানি ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করতে আমরা নতুন পর্যায়ে গিয়ে দেশের কেন্দ্রীয় রাস্তায় দমনমূলক প্রতিষ্ঠান ও যন্ত্রপাতি লক্ষ্যবস্তু করব। জনগণকে সরকারের সাথে যোগ দিয়ে জাতিকে সমর্থন করার সুযোগ রয়েছে।”
প্রিন্স আরও উল্লেখ করেছেন, “সরকারি বাহিনীর ভাড়াটে সৈন্য এবং দ্রুত পতনের ভয়জনিত ঘাটতির কারণে জনগণকে দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। ইরানের স্বাধীনতা নিকটবর্তী, এবং আমাদের বিজয়ের দিকে পথটি জনগণের রক্তের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট।”
বিশ্বজুড়ে এই ঘটনার নিন্দা জানানো হচ্ছে। ইরানের রাস্তায় যুবক-যুবতীরা সরকারের অব্যবস্থাপনা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন ইরানের দিকে।
