
আই-প্যাকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও আইনি টানাপড়েন নতুন মোড় নিতে চলেছে। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও, আদৌ সেই শুনানি হবে কি না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ, একই ইস্যু বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। ফলে প্রশ্ন উঠছে , এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের শুনানির এক্তিয়ার কতটা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ আজও মামলার শুনানি পিছিয়ে দিতে পারেন বলেই মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান কী হয়, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। তবে শুনানির আগেই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
আদালতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও তাঁদের আইনজীবী ছাড়া আর কেউ এজলাসে প্রবেশ করতে পারবেন না। যাঁরা সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাঁদের জন্য লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে শুনানি দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই মামলায় যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই কড়া নির্দেশ।
এর নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা। গত ৯ জানুয়ারি এই মামলার শুনানির দিন আদালতকক্ষে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বিপুল ভিড়, হট্টগোল ও সতর্কবার্তা উপেক্ষার জেরে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। সেদিন শুনানি স্থগিত রেখে মামলার পরবর্তী তারিখ ১৪ জানুয়ারি ধার্য করা হয়।
উল্লেখ্য, আইপ্যাকের সল্টলেক সেক্টর ফাইভের দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশিকে কেন্দ্র করেই এই মামলার সূত্রপাত। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ইডি হাইকোর্টে মামলা করে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পার্টি করা হয়েছে। পাল্টা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তৃণমূল কংগ্রেস।
আজ আদালতের এজলাসে নয়, বরং লাইভ স্ট্রিমিংয়ের পর্দাতেই বেশি চোখ থাকবে রাজনৈতিক মহলের। শুনানি হবে, না কি ফের পিছোবে। সেই দিকেই নজর গোটা রাজ্যের।
