
বছরের শুরুতেই রবীন্দ্রসঙ্গীতের জগতে বড় শূন্যতা। কিংবদন্তি শিল্পী অর্ঘ্য সেন ১৪ জানুয়ারি, বুধবার প্রয়াত হয়েছেন, বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে সঙ্গীতমহল শোকস্তব্ধ।
অর্ঘ্য সেন কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের এক বিশেষ অনুভূতির নাম। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে’ কিংবা ‘আমার মাথা নত করে দাও’ এই গানগুলো আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে নীরব ঢেউ তোলে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর সুরে খুঁজেছে শান্তি, আত্মিক সমাধান এবং আশ্রয়।
সঙ্গীত জীবনে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে তিনি পেলেন সঙ্গীত নাটক অকাদেমি পুরস্কার। পরবর্তীতে ‘টেগোর ফেলো’ সম্মানও তাঁর ঝুলিতে আসে। তবে যে গানগুলি তিনি রেখে গেছেন, তা আজও মানুষকে ভাবায়, শান্ত করে এবং আত্মিক স্পর্শ পৌঁছে দেয়।
সঙ্গীতজ্ঞরা মনে করেন, অর্ঘ্য সেনের কণ্ঠ এক জীবন্ত ঐতিহ্য, যা কখনো মুছে যাবে না। রবীন্দ্রসঙ্গীতের ছাত্র ও শ্রোতারা আজও তাঁর গান থেকে অনুপ্রেরণা পায়। তাঁর গানে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা আরও অন্তরঙ্গ হয়ে ওঠে।
অর্ঘ্য সেন চলে গেলেও, তাঁর কণ্ঠ আজীবন আমাদের সঙ্গে থাকবে। রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রেমীরা তার সঙ্গীতকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করবেন। এই নিঃশব্দ বিদায়ে, সঙ্গীতের জগতে একটি আলোকিত নক্ষত্রের পতন ঘটেছে।
