
সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা শুরুর আগে বিজেপি কর্মীরা সকাল থেকেই ভোজনের ব্যস্ততায় মেতে উঠেছেন। হরিপাল ও ইলাহিপুর অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে রান্না শুরু হয়েছে ডিমের ঝোল ও ভাত দিয়ে। কর্মীরা জানালেন, সভার আগে আর কখন খাওয়ার সময় হবে জানা নেই, তাই সকালের এই খাবারেই শক্তি ভরার চেষ্টা করছেন। বড় লোহার কড়াই ও পাকা ইটের উনুনে রান্না করা হচ্ছে, যেখানে ভাত ও ডিমের সঙ্গে মাঝে মাঝে সয়াবিনের তরকারিও যোগ হচ্ছে।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলের ব্রিগেডে ‘ডিম্ভাত’ বিতরণের স্মৃতি ফেরাল এই প্রস্তুতি। তৎকালীন সময়ের বানান ভুল ‘ডিম্ভাত’ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল এবং এখন তা এক ধরনের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যের মানুষ এখনও স্বল্প খরচে এবং সহজে তৈরি খাবার হিসেবে ডিম-ভাতকে বেছে নেন। করোনার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মা’ প্রকল্পের মাধ্যমে দুঃস্থদের জন্য মাত্র ৫ টাকায় ডিম-ভাত সরবরাহের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
সকালে নেতারা কর্মীদের আহ্বান জানিয়ে দ্রুত রান্না-খাওয়ার পর বাসে চেপে সিঙ্গুরের সভাস্থলে পৌঁছানোর প্রস্তুতি করছেন। কর্মীরা রান্নার সময় ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলেছেন। রাজনৈতিক পার্থক্য যতই থাকুক, বড় সভার আগে সকালের এই সহজ ও শক্তিদায়ক আহারের গুরুত্ব রাজ্যে সমান। এই প্রথা এখন রাজনৈতিক সভার একটি চিহ্নিত অংশে পরিণত হয়েছে।
ডিম-ভাতের সহজতা, কম খরচ এবং দ্রুত প্রস্তুতির কারণে এটি এখন শুধু খাদ্য নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক চর্চারও একটি পরিচায়ক। সিঙ্গুরে এই দৃশ্য রাজনীতির পটভূমিতে সাধারণ কর্মীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে বড় রাজনৈতিক ঘটনার সংযোগের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
