
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে রাজ্যে। সেই প্রেক্ষিতেই সোমবার ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরের কালীবাড়ি মাঠে বিজেপির “পরিবর্তন সংকল্প সভা” অনুষ্ঠিত হলো। সভার প্রধান বক্তা ছিলেন প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাহুল সিনহা। তাঁর হাত ধরেই বিধাননগর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান ভোলানাথ মণ্ডল, প্রাক্তন তৃণমূল যুব সভাপতি অশোক বিশ্বাস সহ মোট ৭০টি পরিবার তৃণমূল ও কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। কংগ্রেস জেলা নেতা অরুণ রায়ও এদিন বিজেপিতে যোগ দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, দুর্গা মুর্মূ ও আনন্দময় বর্মন। মঞ্চ থেকে রাহুল সিনহা একের পর এক ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৃণমূলের কোনও জয় নয়। পরপর পরাজয়ের মাঝেও একটি রায়কে নিজেদের জয় বলে প্রচার করছে তারা। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মানতেই হবে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে রাহুল সিনহা বলেন, “ভোটে নিশ্চিত হার বুঝেই ‘জিতব, জিতব’ বলা হচ্ছে। আসলে চরম পরাজয় অপেক্ষা করছে তৃণমূলের জন্য।” এসআইআর ইস্যুতে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের “মৃত্যুঘণ্টা” এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে বলেই তারা আতঙ্কিত ও হাঙ্গামা করছে।
বেলডাঙার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে রাহুল সিনহা বলেন, “পুলিশমন্ত্রী নিজেই আগুন লাগিয়েছেন, তাই পুলিশ অসহায়।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি করতে তৃণমূল চাপ দিয়ে বিএলওদের ব্যবহার করেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত শোকজ ও চাকরিচ্যুতির দাবিও জানান তিনি।
সভা শেষে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যকে “বাঁচানোর আশা” দেখেই তৃণমূল ও কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।
