
হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশ পাঠানো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনও অনানুষ্ঠানিক বার্তার ভূমিকা থাকতে পারে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, “হোয়াটসঅ্যাপ কোনও সরকারি নির্দেশের মাধ্যম হতে পারে না। কমিশনকে অবশ্যই লিখিত ও আনুষ্ঠানিক সার্কুলার জারি করতে হবে।”
এই মামলায় বিচারপতি বাগচি বলেন, “এক কোটিরও বেশি মানুষকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের উপর যে মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে, তা উপেক্ষা করা যায় না।” আদালতের মতে, এই ধরনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি বা আইনি নির্দেশ ছাড়াই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী। এই নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠিও পাঠান তিনি, যদিও কমিশনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব মেলেনি।
এদিন সুপ্রিম কোর্ট আরও নির্দেশ দেয়, পশ্চিমবঙ্গে যাঁদের নামে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এই তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক ও ওয়ার্ড অফিসে টাঙাতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা সহজেই জানতে পারেন তাঁদের নাম রয়েছে কি না।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তালিকা প্রকাশের পর ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি জানানোর সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে নথি জমা দেওয়ার জন্য বাড়তি সময়ও দিতে হবে। শুনানির ক্ষেত্রে ভোটার স্বশরীরে অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হতে পারবেন। পাশাপাশি, জমা দেওয়া নথির রসিদ দিতে হবে এবং আপত্তি খারিজ হলে তার কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে SIR প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকতার বার্তা স্পষ্ট হল বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
