
দেশজুড়ে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ, ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ সব মিলিয়ে চরম অস্থিরতার মধ্যে দাঁড়িয়ে ইরান। এই পরিস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে লক্ষ্য করে কোনও হামলা হলে তা সরাসরি ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতার উপর আঘাত মানেই গোটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।
এক্স (X)-এ দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনও ‘অন্যায় আগ্রাসনের’ জবাব হবে কঠোর ও অনুশোচনাযোগ্য। একই সঙ্গে তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দায়ী করেন। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও পশ্চিমি চাপের ফলেই সাধারণ ইরানিদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে তাঁর দাবি।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে। ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা ফাঁসি চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরানের নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।” তাঁর অভিযোগ, তেহরানের শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় টিকে থাকতে দমন-পীড়ন ও হিংসার পথ বেছে নিয়েছে।
তবে নাটকীয়ভাবে সুর বদলে ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানি প্রশাসনের প্রশংসাও করেন। ৮০০-র বেশি বন্দির নির্ধারিত ফাঁসি বাতিল করার সিদ্ধান্তকে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।
এদিকে ইরানের শীর্ষ এক কর্মকর্তার দাবি, চলমান অশান্তিতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৫০০ জন নিরাপত্তাকর্মী। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি উত্তর-পশ্চিম ইরানের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায়, যেখানে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সংঘর্ষে উত্তেজনা চরমে।
ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের মূল কারণ লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি ও ভেঙে পড়া অর্থনীতি। বহু বিশ্লেষকের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটাই ইরানের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অস্থিরতা। খামেনেই সরাসরি পশ্চিম, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকেই এই অশান্তির জন্য দায়ী করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত মানেই ভয়াবহ পরিণতি।
