
রাজ্যে নিপা ভাইরাস নিয়ে ফের উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বর, সর্দি, কাশি ও বমির উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক মহিলার মৃত্যু ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই ওই মহিলার মৃত্যু হওয়ায় নিশ্চিতভাবে নিপা সংক্রমণ বলা যাচ্ছে না, তবু উপসর্গ নিপার সঙ্গে মিলে যাওয়ায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
নিপা ভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গঠন করেছে। এই দল নিপা আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগী, তাঁদের পরিবার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিস্তারিত গাইডলাইন তৈরি করেছে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা মোট ১০৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রত্যেককেই হোম কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন ৪৮ জন ও দ্বিতীয় দিন ৮২ জন হোম কোয়ারান্টিনে ছিলেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত রোগীর রক্ত, লালা, দেহের তরল পদার্থ বা হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের সংস্পর্শে এলে ২১ দিনের হোম কোয়ারান্টিন বাধ্যতামূলক। এছাড়া কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে বদ্ধ জায়গায় সময় কাটানোকে ‘হাই রিস্ক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোয়ারান্টিন চলাকালীন জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক হাউস স্টাফকে কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের রিপোর্ট হাতে এসেছে, যাঁদের সকলেরই ফল নেগেটিভ, যা কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নিপা কোভিডের মতো অতটা সংক্রামক নয়, তবে অনেক বেশি ভয়ংকর। আতঙ্ক নয়, সচেতনতা জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। ইতিমধ্যেই হাসপাতাল চত্বরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং কাঁচা খেজুর রস না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখে চলেছে রাজ্য প্রশাসন।
