
রাজ্যে কি তবে শীত বিদায় নিতে চলেছে? এমনই ইঙ্গিত মিলছে আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে। দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ দুই অঞ্চলেই ধীরে ধীরে বাড়ছে তাপমাত্রা। আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি সপ্তাহেই দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে সরস্বতী পুজোর সময় থেকেই শীতের দাপট অনেকটাই কমে যাবে বলে অনুমান।
কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় ইতিমধ্যেই দিনের তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েক দিনে শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বেড়ে ২৫ ডিগ্রির গণ্ডি ছুঁয়েছে। রাতের তাপমাত্রাতেও সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২২ জানুয়ারি রাতে পারদ সামান্য নামলেও ২৩ জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে তাপমাত্রা বাড়বে। প্রজাতন্ত্র দিবসের সময় নাগাদ ভোর বা রাতের মনোরম শীতও অনেকটাই গায়েব হতে পারে।
তবে শীত কমলেও এখনই স্বস্তি নেই। সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জেলায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনায় সকালের দিকে ঘন কুয়াশা দেখা যেতে পারে। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলাতেও কুয়াশার সতর্কতা রয়েছে।
আবহাওয়ার এই বদলের নেপথ্যে রয়েছে একের পর এক পশ্চিমি ঝঞ্ঝা। উত্তর-পশ্চিম ভারতে সক্রিয় রয়েছে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা, যার প্রভাব পড়ছে পূর্ব ভারতেও। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অংশে ঘূর্ণাবর্ত ও আপার এয়ার সার্কুলেশনের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এদিকে মৌসম ভবন ইতিমধ্যেই চলতি মরশুমের জন্য দেশজুড়ে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা প্রত্যাহার করেছে। যদিও উত্তর ভারতের কিছু অংশে এখনও শীতল দিনের পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে বাংলায় শীতের রেশ থাকলেও ধীরে ধীরে বসন্তের উষ্ণতার ছোঁয়া অনুভূত হতে চলেছে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
