
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় গত কয়েকদিনের দফায় দফায় চলা অশান্তি ও ভাঙচুরের ঘটনায় এবার হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ একাধিক ব্যক্তির দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার আদালত সাফ জানিয়ে দিল, এলাকার শান্তি ফেরাতে রাজ্যকে পূর্ণ শক্তিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় এনআইএ তদন্ত হবে কি না, সেই বল এখন কেন্দ্রের কোর্টেই ঠেলে দিয়েছে উচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ বেলডাঙার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ওই এলাকায় বারবার হিংসার ঘটনা ঘটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পুলিশ এবং সরকারি সম্পত্তির ওপর হামলা, জাতীয় সড়ক অবরোধ—এসবই প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের জীবন ও মর্যাদা বিপন্ন। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান কাজ।
মামলাকারীদের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-কে দিয়ে তদন্তের দাবি তোলা হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট জানিয়েছে, এনআইএ আইনের ৬(৫) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্র সরকার চাইলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনার তদন্তভার নিতে পারে। এ ব্যাপারে আদালতের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। অর্থাৎ, কেন্দ্র যদি মনে করে এই হিংসার পেছনে কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা নাশকতামূলক যোগ রয়েছে, তবে এনআইএ যেকোনো সময় দায়িত্ব নিতে পারবে। পুরো শক্তিতে নামাতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী
বেলডাঙায় বর্তমানে যে পাঁচ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েন রয়েছে, তাদের সঠিকভাবে ব্যবহার না করার অভিযোগ তুলেছিল মামলাকারীরা। আদালত মঙ্গলবার রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে, শান্তি ফেরাতে এই বাহিনীকে যেন পূর্ণ ক্ষমতায় কাজে লাগানো হয়। প্রয়োজনে কেন্দ্র থেকে আরও বাহিনী চেয়ে পাঠাতে পারবে রাজ্য। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং মহকুমা শাসককে (এসডিএম) ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে যাতে নতুন করে কোনো সম্পত্তি বা জীবনের ক্ষতি না হয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে কত বাহিনী মোতায়েন আছে এবং তাদের কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত শুক্র ও শনিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেলডাঙা। ভাঙচুর হয় রেল স্টেশন ও জাতীয় সড়কে। পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং সাংবাদিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি সামলাতে তারা কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে এবং ইতিমধ্যেই ৩০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের এই দাবি সত্ত্বেও বারবার কেন এলাকা উত্তপ্ত হচ্ছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
আগামী চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ততদিন পর্যন্ত কড়া নজরদারিতে থাকবে বেলডাঙা। এখন দেখার, হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর রাজ্য প্রশাসন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কতটা সক্রিয় করে এবং কেন্দ্র সরকার এনআইএ তদন্তের পথে হাঁটে কি না।।
