
নবান্নে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর সঙ্গে জেলাশাসকদের একটি প্রশাসনিক বৈঠক চলাকালীন আচমকাই সেখানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই তিন জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। নির্বাচনের আগে উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা চলছিল বলে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে ঢোকার আগে জেলাশাসকদের ফোন বাইরে রেখে আসতে বলা হয়েছিল। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের উদ্দেশে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সমস্ত নির্দেশ ও রায় মেনে এসআইআর (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত কাজ করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি আরও মানবিক হতে হবে। যাঁরা শুনানিতে আসতে পারছেন না, তাঁদের সুবিধা অনুযায়ী জায়গায় গিয়ে এসআইআর করার নির্দেশও দেন তিনি।
সূত্রের দাবি, বৈঠক চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে বলেন, তাঁর কাছে খবর রয়েছে যে তিন জন জেলাশাসক নিয়মিত নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং কমিশনকে খুশি করতে গিয়ে নিজেদের মতো করে কাজ করছেন। এ নিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জানান, এ ধরনের ভূমিকা প্রশাসনে গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি ওই তিন আধিকারিকের আর প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি বলে সূত্রের খবর।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের আধিকারিক হয়েও যাঁরা রোল অবজার্ভারের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের একাংশের ভূমিকাতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে রোল অবজার্ভার সি মুরুগান এবং রণধীর কুমারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের কথা উঠে আসে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজেপি এই ইস্যুতে শাসকদলকে আক্রমণ করে। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর গণতন্ত্র ও সংবিধানের প্রতি বিশ্বাস নেই। জেলাশাসকদের ধমকানো হচ্ছে বলেই অভিযোগ তাঁর। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
