
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় জনকল্যাণ প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে ভোটের আগে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের সাধারণ মহিলা প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা ১,২০০ টাকা করে ভাতা পান। তবে বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৭,২০০ মহিলা দীর্ঘ ৬ মাস ধরে ভাতা পাচ্ছেন না, অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিজেপি দখলে থাকা পঞ্চায়েত এলাকায় মহিলা সদস্য হওয়ার কারণে সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, মাসের শুরুতে সাধারণত ভাতা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়, কিন্তু এখানকার মহিলাদের টাকা আটকে রাখা হয়েছে। বহুবার জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও সমস্যা সমাধান হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ মহিলারা কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছেন। মামলাকারী সুনীতা মণ্ডল সাহু দাবি করেছেন, রাজ্যের অন্যান্য এলাকায় মহিলারা নিয়মমতো ভাতা পাচ্ছেন, কিন্তু বাগচা ও গোজিনা অঞ্চলে রাজনৈতিক কারণে টাকা আটকে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের মহিলা সদস্য হওয়ার কারণে বঞ্চনা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়।”
রাজনৈতিক মহলও এই ঘটনার দিকে নজর দিচ্ছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা না দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে এবং এটি ভোট প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা। স্থানীয় মহিলাদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, ভোটের আগে কয়েক হাজার অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকানো নির্বাচনী ইস্যুতে প্রভাব ফেলতে পারে। জনস্বার্থ মামলার পাশাপাশি প্রশাসনের দিকে নজর রয়েছে, তারা কত দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে পারে, তা এখন ভোটপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ এবং উপভোক্তাদের পাওনা টাকা পাওয়া এই নির্বাচনের আগে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে।
