
ভোটের আবহে আশা কর্মীদের আন্দোলনে বুধবার উত্তাল হয়ে উঠল কলকাতা। ভাতা বৃদ্ধি, বকেয়া পরিশোধসহ একাধিক দাবিতে পথে নামলেন রাজ্যের প্রায় ৮০ হাজার আশা কর্মী, এমনই দাবি তাঁদের সংগঠনের। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে দিনভর অবস্থান, মিছিল ও স্লোগানে গরম হয়ে ওঠে শহর। এই বিশাল আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক অঙ্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
এর আগেই রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে কিছু সংগঠন আশা কর্মীদের ব্যবহার করছে। তবে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকেই এই প্রতিবাদ। কম ভাতা, অনিয়মিত পারিশ্রমিক এবং কাজের চাপ, এই সব সমস্যার সমাধান না হওয়াতেই তাঁরা পথে নেমেছেন।
এদিন আন্দোলনস্থলে SUCI-র শ্রমিক সংগঠন AIUTUC-এর পোস্টার চোখে পড়ে। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস বলেন, “এটা কোনও ভোটের রাজনীতি নয়। শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ের লড়াই। আশা কর্মীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের হতে পারেন, কিন্তু দাবির প্রশ্নে তাঁরা একজোট।” তাঁর আরও বক্তব্য, সরকার সব প্রতিবাদকেই ভোটের রাজনীতির চশমায় দেখে, কিন্তু সমাজের ভালোর জন্য লড়াই করাটাই তাঁদের কাছে রাজনীতি।
উল্লেখ্য, অতীতে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন লড়েছিল SUCI। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন উঠলেও অশোক দাস স্পষ্ট করেন, তাঁদের সংগঠন কোনও নির্দিষ্ট দলের বিরোধিতা বা সমর্থনে নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাঁর কথায়, “ভোটের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণির মুক্তি আসে না। তাই আমরা ভোটকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই।”
সামনে নির্বাচন থাকায় আশা কর্মীদের এই বৃহৎ আন্দোলন যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে, তা বলাই বাহুল্য। আন্দোলন কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর।
