
বাঙালির হুজুগ আর ফুটবল উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। তবে সেই উন্মাদনা যদি সরকারি জমি বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে, তবে তা যে আদালতের নজর এড়াবে না, তা স্পষ্ট হয়ে গেল। লেকটাউনে বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা লিয়োনেল মেসি ও দিয়েগো মারাদোনার মূর্তি বসানো নিয়ে এবার রাজ্য সরকার এবং দমদম পুরসভার কাছে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলাটি দায়ের করেন স্বদেশ মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, লেকটাউনে মেসি ও মারাদোনার যে বিশালাকার মূর্তিগুলি বসানো হয়েছে, সেগুলি আদৌ আইন মেনে করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। মামলাকারীর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বা ফুটপাত দখল করে কোনো সরকারি জমিতে স্থায়ী কাঠামো বা মূর্তি বসানো যায় না। লেকটাউনে সেই নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আর্জি জানান তিনি। মামলাকারীর বক্তব্য শোনার পর আদালত এই বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। দমদম পুরসভা এবং রাজ্য সরকারকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে হলফনামা দিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। জমির মালিকানা কার, মূর্তি বসানোর আগে যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এই সব তথ্যই এখন আদালতকে জানাতে হবে প্রশাসনকে।
সম্প্রতি লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে সল্টলেক যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই মামলার শুনানির সময়েই এই মূর্তির প্রসঙ্গটি উঠে আসে। উল্লেখ্য, হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও দর্শকরা মেসিকে এক পলক দেখার সুযোগ পাননি। মাত্র ১৬ মিনিট মাঠে থাকার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হলে ক্ষুব্ধ জনতা স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালায়। সেই ঘটনার রেশ ধরেই এবার লেকটাউনের মূর্তির আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। ২০১৭ সালে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় মারাদোনার মূর্তি বসানো হয়েছিল। এরপর গত ডিসেম্বরে মন্ত্রী সুজিত বসুর উদ্যোগে মেসির প্রায় ৭০ ফুটের এক বিশাল মূর্তির উন্মোচন করেন খোদ আর্জেন্টাইন তারকা। বাঙালির ফুটবলপ্রেম নিয়ে কোনো সংশয় নেই, কিন্তু সরকারি জমি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা ক্লাব পর্যায়ে এই ধরণের নির্মাণ কতটা আইনসিদ্ধ, তা নিয়েই এখন চলছে আইনি লড়াই।
উচ্চ আদালতের এই কড়া অবস্থানের পর এখন রাজ্য সরকার ও পুরসভা কী জবাব দেয়, সেটাই দেখার। ফুটবল আবেগে আইন কি সত্যিই নমনীয় হবে, নাকি সরবে এই বিশালাকার মূর্তি? উত্তর মিলবে তিন সপ্তাহ পরেই।।
