
আইনি জটিলতার কারণে শান্তিনিকেতনের বিখ্যাত সোনাঝুরি হাটের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণের অভিযোগের মধ্যেই হাট চালু রয়েছে। কিন্তু পরিবেশ আদালতের রায়ের অপেক্ষায় এখন হাটের হস্তশিল্পী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ তুঙ্গে।
২০১৬-১৭ সাল থেকে সোনাঝুরি হাটের পরিসর ক্রমে বৃদ্ধি পেয়েছে। খাতায়-কলমে ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ১,৮০০, কিন্তু বাস্তবে সেখানে প্রায় চার হাজারের বেশি ব্যবসায়ী বসেন। সপ্তাহে প্রায় ছয় দিন হাট বসায়, ফলে জমজমাট ভিড় ও শব্দদূষণ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বনদপ্তর মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও কয়েকদিন পর বেনিয়ম আবার শুরু হয়।
পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত এই অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হন। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও বনদপ্তরও আদালতে হলফনামা জমা দেয়। চূড়ান্ত রায় মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। এই রায়ের ওপর নির্ভর করছে হাটের ভবিষ্যৎ চলবে কি না বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে কি না।
হাতের শিল্প ও জীবিকা রক্ষার দাবি বনাম পরিবেশ সুরক্ষা এই দ্বন্দ্বের মাঝেই রয়েছে সোনাঝুরি হাট। হাট বন্ধ হলে হাজার হাজার হস্তশিল্পী ও ব্যবসায়ীর জীবিকা ব্যাহত হবে। অন্যদিকে হাট চালু থাকলে পরিবেশগত সমস্যা অব্যাহত থাকবে।
সকলের নজর এখন পরিবেশ আদালতের রায়ের দিকে। হাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত স্থানীয়রা, ব্যবসায়ীরা ও পর্যটকেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দূষণ বনাম জীবিকা। এই দ্বন্দ্বের সমাধান নির্ভর করছে আগামী রায়ের ওপর। শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী হাটের এই ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো অঞ্চল এখন নতুন আশঙ্কা ও উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে।
