
দিল্লির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এবার ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে কলকাতা। শহরের বাতাসের মান যে অত্যন্ত খারাপ জায়গায় পৌঁছেছে, তা স্বীকার করে নিলেন খোদ কলকাতার মেয়র তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, ভৌগোলিক অবস্থান এবং আবহাওয়াগত কারণের জেরেই কলকাতায় দূষণ জমে থাকছে। দক্ষিণা বাতাস না থাকায় দূষিত বাতাস শহর থেকে বেরোতে পারছে না, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, এতদিন কলকাতা পুরসভা দূষণের বাস্তবতা মানতে চায়নি। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মেয়র বাধ্য হয়েছেন বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসতে। বুধবার কলকাতা পুরসভায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশ, রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মেয়রের নির্দেশ অনুযায়ী, দূষণ যাচাই সংক্রান্ত সার্টিফিকেট (PUC) নেই এমন গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে কলকাতা পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকার ফলে যে ধোঁয়া বেরোচ্ছে, তা দূষণের অন্যতম কারণ বলে জানানো হয়েছে। তাই যানজট কমিয়ে দ্রুত যান চলাচলের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, রাস্তায় বালি বা নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা যাবে না বলে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুরসভার আধিকারিকদের। যেসব জায়গায় নির্মাণকাজ চলছে, সেগুলি নির্দিষ্টভাবে ঢেকে রাখতে হবে, না হলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। মেট্রো নির্মাণের ক্ষেত্রেও নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা পরিত্যক্ত গাড়ি দ্রুত সরাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্প্রিংকলার ও ফগ ওয়াটার মেশিনের মাধ্যমে শহর জুড়ে জল স্প্রে করে ধুলো নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মেয়রের আশা, এই পদক্ষেপগুলি দ্রুত কার্যকর হলে কলকাতার বাতাসের মান কিছুটা হলেও উন্নত হবে।
