
কলকাতার আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। প্রজাতন্ত্র দিবসের ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর থেকেই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। তবে দেরিতে পৌঁছনো নিয়ে বিরোধীদের তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন।
রবিবার গভীর রাতে আনন্দপুরের একটি গোডাউনে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেখানে মোমো তৈরির কারখানা ও ডেকোরেটরদের গোডাউন ছিল বলে জানা গেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশাল এলাকা জুড়ে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দমকল সূত্রে খবর, প্রায় ৩৫ হাজার স্কোয়ার ফিট এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পর্যায়ক্রমে ১২টি ইঞ্জিন পাঠানো হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার ও নেভানোর কাজ চলে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলমন্ত্রী জানান, গোডাউনটি কার্যত ‘জতুগৃহ’-এর মতো ছিল, অর্থাৎ বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ সেখানে মজুত ছিল। তিনি স্বীকার করেন, সেখানে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। ফায়ার অডিট হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। ফরেনসিক টিম পাঠানো হবে এবং এফআইআর দায়ের করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ, আগুন লাগার পর এত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় মন্ত্রীর দেরিতে পৌঁছনো প্রশাসনিক গাফিলতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, গোডাউনটি জলাভূমি ভরাট করে তৈরি করা হয়েছিল এবং নিরাপত্তা বিধি মানা হয়নি। এই ঘটনায় মৃত ও নিখোঁজদের পরিবার এখনও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও, এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
