
পূর্ব কলকাতার আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৩২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরি নেভেনি আগুন। ‘জতুগৃহ’-এর মতো পরপর থাকা দুই গুদামে একটি মোমো কারখানা ও অন্যটি ডেকরেটার্সের গোডাউন, রবিবার গভীর রাতে আগুন লাগে। ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা আগুনের মধ্যে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে দমকল কর্মীরা চরম সমস্যায় পড়ছেন। সর্বশেষ পাওয়া খবরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮। এখনও অন্তত ১৩-১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
রবিবার রাত প্রায় ৩টে নাগাদ নাজিরাবাজার এলাকায় প্রথমে একটি মোমো কোম্পানির গুদামে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই পাশের আরও দুটি গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। সোমবার রাত পর্যন্ত দমকলের ১২টি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে মঙ্গলবার বেলাতেও বিভিন্ন জায়গায় পকেট ফায়ার দেখা যায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু জানান, প্রায় ৩৫ হাজার বর্গফুট এলাকায় বিস্তৃত এই গুদামগুলিতে বিপুল পরিমাণ দাহ্য সামগ্রী ছিল। তিনি বলেন, জায়গাটি কার্যত ‘জতুগৃহ’-এর মতো হয়ে গিয়েছিল, ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যায়।
দমকল বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার জানিয়েছেন, গুদামগুলির কাছে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় দমকলের ছাড়পত্র ছিল না। কীভাবে অনুমোদন ছাড়াই দিনের পর দিন এই গুদাম চলছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থলের বাইরে স্বজনহারাদের কান্নায় ভারী পরিবেশ। নিখোঁজদের অনেকেরই বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলির ফরেন্সিক পরীক্ষা চলছে, যাতে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
