
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আজ ঘোষিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। এই চুক্তি শুধু বাণিজ্য নয়, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ভারত–ইইউ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার বৈঠক হওয়ার কথা। সাধারণতন্ত্র দিবসের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে তাঁরা কুচকাওয়াজেও অংশ নেন। এই বৈঠকে বাণিজ্য ছাড়াও প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে।
ইইউ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত অংশীদারিত্বের আওতায় একটি প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি ও একটি কৌশলগত কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর ফলে যৌথ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি’ বা একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৫০ বিলিয়ন ইউরোর ‘সেফ’ প্রতিরক্ষা তহবিলে ভারতীয় সংস্থাগুলির অংশগ্রহণের পথও খুলতে পারে।
এই এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে, তবে ২০১৩ সালে তা থমকে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২২ সালে আবার আলোচনা শুরু হয়। বর্তমান বৈঠককে সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনীতিকদের মতে, শ্রমিক ও পেশাদারদের ইউরোপে যাতায়াত সহজ করতে একটি মোবিলিটি চুক্তিও হতে পারে। এতে ভারতীয় কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে দুই পক্ষের মধ্যে মোট পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার আবহে এই চুক্তিকে ভারত–ইইউ সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
