
বাংলায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসনকে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের পর প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটের স্বার্থে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা বাংলা শান্তি চায়, তাই সবাইকে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় কেউ কেউ অশান্তি ছড়াতে চাইছেন। সতর্ক থাকতে হবে। ভোটের জন্য কেউ কেউ গোলমাল পাকাতে চায়। কিন্তু আমাকে তো ৩৬৫ দিন রাজ্য চালাতে হয়। তাই প্রশাসনকে শান্তি বজায় রাখার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বাংলায় শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেন এবং সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে বড় আকারের বিক্ষোভ বা অবরোধ না হয়, সে দিকেও নজর দিতে হবে।
নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ছোট কোনও ঘটনাতেও যাতে রাস্তা অবরোধ, ট্রেন অবরোধ বা অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সংযত থাকতে হবে। তাঁর কথায়, “আমি চাই সবাই শান্তিতে থাকুক। কেউ কারও বিষয়ে অযথা নাক গলাবে না।”
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি নির্দেশ দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও সক্রিয় ও সতর্ক হতে হবে, যাতে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত না হয়। পরিবার-পরিজন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখাই সরকারের অগ্রাধিকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে বিরোধী শিবির থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, প্রশাসন যদি রাজনৈতিক চাপের মুখে দুর্বল হয়, তাহলে অশান্তি রোখা কঠিন হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ধর্ম ও জাতের রাজনীতি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের মরসুমে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া সতর্কবার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
