
নতুন বছরের শুরুতেই বলিউড ও টলিউডে বড়সড় চমক দিলেন অরিজিৎ সিং। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন, প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আর নতুন কোনও কাজ নেবেন না। এই ঘোষণায় মুহূর্তের মধ্যেই স্তব্ধ সঙ্গীতজগৎ এবং আবেগে ভাসলেন কোটি কোটি অনুরাগী।
অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অরিজিৎ লেখেন, গত কয়েক বছর ধরে শ্রোতাদের যে ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তবে এখন থেকে প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আর কাজ করবেন না, এই সিদ্ধান্তেই তিনি অনড়। যদিও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গান গাওয়া বা সঙ্গীত তৈরি তিনি একেবারেই বন্ধ করছেন না। বরং বাণিজ্যিক ছবির প্লেব্যাক থেকে সরে এসে স্বাধীন সৃষ্টিতে বেশি সময় দিতে চান।
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর, অরিজিৎ নিজের স্বাধীন মিউজিক লেবেল ‘ওরিয়ন মিউজিক’-এ আরও সক্রিয় হতে চান। পাশাপাশি কম্পোজিশন, প্রযোজনা এবং ভবিষ্যতে পরিচালনাতেও হাত পাকানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ফলে প্লেব্যাক থেকে সরে আসা মানেই সঙ্গীতজগৎ থেকে বিদায় নয়, বরং নিজের শর্তে সৃষ্টির পথে হাঁটার প্রস্তুতি।
২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’ থেকে যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’-এর ‘তুম হি হো’ দিয়ে রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন অরিজিৎ। ‘চান্না মেরেয়া’, ‘মুসকুরানে’, ‘ঘুনঘুর’, ‘দিল্লিওয়ালি গার্লফ্রেন্ড’ থেকে শুরু করে বাংলায় ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘মেঘবালিকা’ হিটের পর হিট উপহার দিয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় থেকে রক, প্রেমের গান থেকে পার্টি নাম্বার, সব ঘরানায় সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
তাঁর এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই তুলনা করছেন বড় কোনও ক্রীড়াবিদের অবসরের সঙ্গে। অনুরাগীদের আবেগ, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া এবং ইন্ডাস্ট্রির নীরবতা, সব মিলিয়ে স্পষ্ট, প্লেব্যাকের মঞ্চ থেকে সরে যাওয়া মানেই এক যুগের ইতি। তবে স্বাধীন সৃষ্টিতে অরিজিতের নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
