
সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক সভাকে ঘিরে হুগলি জেলাজুড়ে এক অভিনব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরের মূল সভার পাশাপাশি জেলার প্রতিটি ব্লক সদর ও পঞ্চায়েত এলাকায় একসঙ্গে ছোট ছোট জমায়েত হবে। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাড়ি উৎসব’। প্রশাসন ও শাসকদল সূত্রের খবর, একদিনেই হুগলিতে শতাধিক সভা বসতে চলেছে।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য রাজ্য সরকারের ‘আমার বাড়ি’ প্রকল্পের আওতায় বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার হাতে বাড়ির অনুমোদনপত্র তুলে দেওয়া। পঞ্চায়েত স্তরে আলাদা আলাদা সভার মাধ্যমে উপভোক্তারা নিজেদের এলাকাতেই ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি হাতে পাবেন। ফলে সিঙ্গুরে গিয়ে মূল সভায় অংশ না নিলেও, গ্রাম ও পাড়ায় বসেই মানুষ প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন।
সিঙ্গুরের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না জানান, ‘আমার বাড়ি’ প্রকল্প বাংলার মানুষের আত্মসম্মানের প্রতীক। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার মানুষের মাথার উপর স্থায়ী ছাদ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই কারণেই একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক উপভোক্তাকে অনুমোদন দেওয়ার এই উদ্যোগ।
হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, এই বিকেন্দ্রীকৃত সভার মাধ্যমে মানুষকে নিজের এলাকাতেই অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, বড় মঞ্চে ভিড় জমানোর বদলে প্রকল্পের সুফল সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য।
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি পঞ্চায়েতে অন্তত ৫০০ জন উপভোক্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সভাস্থলে সিঙ্গুরের মূল অনুষ্ঠান ও রাজ্যস্তরের সভার লাইভ টেলিকাস্টও দেখানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সিঙ্গুরে সভা করেছিলেন। তার দশ দিনের মাথায় ফের সিঙ্গুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই মঞ্চ থেকেই বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আরও লক্ষাধিক উপভোক্তার জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
