
এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যে চলমান বিতর্কের আবহে আগামীকাল, ২৮ জানুয়ারি দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সিঙ্গুরে সরকারি সভা শেষ করেই তিনি কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে রাতেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন। এই সফরকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগও তুলেছে শাসকদল। এই ইস্যুতেই আগেও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে তা মেনে নেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে দিল্লিতে আন্দোলন জোরদার করা হবে।
এর আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিনিধি দল নিয়ে দিল্লিতে গিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর এসআইআর নিয়ে দলের আপত্তি আরও প্রকাশ্যে আসে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, সংশোধনের নামে নাগরিকদের ডাকা হচ্ছে, শুনানির প্রক্রিয়ায় বহু মানুষ সমস্যার মুখে পড়ছেন।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি সফরের সময় নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও, এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে যাঁদের পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি, সেই পরিবারগুলির প্রতিনিধিদের নিয়েও তিনি দিল্লি যেতে পারেন। এর মাধ্যমে রাজ্যের পরিস্থিতিকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরাই তাঁর কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সফরের কারণে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক পিছিয়ে যেতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে। মূলত সংসদের অধিবেশন ও কেন্দ্রীয় বাজেটের সময়সূচির আগেই দিল্লি সফর সেরে ফেলতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, ভোটের আবহে এবং এসআইআর বিতর্কের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লি সফর যে শুধুই প্রশাসনিক নয়, বরং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একটি জোরালো রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে, তা বলাই যায়।
