
পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ঘোষণা ও উদ্বোধন, দুই ক্ষেত্রেই হুগলির ভূমিকা এবার বিশেষভাবে নজর কাড়ল। গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে হুগলির আরামবাগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। সেই মঞ্চে তাঁর পাশে ছিলেন সাংসদ দেব। বুধবার ফের হুগলি থেকেই এই বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনও তাঁর সঙ্গে ছিলেন দেব।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়নি। সেই কারণে রাজ্য সরকার নিজ উদ্যোগে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণের সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে সাংসদ দেবের অনুরোধে প্রথম পর্যায়ে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে ঘাটাল ও সংলগ্ন এলাকার দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের আওতায় ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ কিলোমিটার নদী বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ কিলোমিটার খাল ও নদী খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেচ ও জলসম্পদ দফতরের তত্ত্বাবধানে ২টি পাম্প হাউস, ৩টি রেগুলেটর, একটি সেতু সম্প্রসারণ এবং মোট ১০৪টি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং বর্ষাকালে জল জমে থাকার সমস্যা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনের আগে দেব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের দাবিটি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। নির্বাচনী প্রচারে দেবকে মঞ্চে রেখেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্র সরকার বঞ্চনা করলেও রাজ্য সরকারই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করবে। সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব রূপ দেখা গেল বুধবারের উদ্বোধনের মাধ্যমে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সেচ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা এগোচ্ছে।
