
সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার ইউজিসি কর্তৃক শিক্ষাঙ্গনে জাতিগত বৈষম্য রোধে প্রণীত নতুন বিধি আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মল্য বাগচীর বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বিধি কার্যকর হলে সমাজে বিভাজন তৈরি হতে পারে এবং শিক্ষাঙ্গনের প্রগতিশীল পরিবেশে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই আদালত বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে এই বিধি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে। ততদিন পর্যন্ত ২০১২ সালের পুরনো বিধি বহাল থাকবে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ইউজিসি ‘প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইন ইন্সটিটিউশন্স’ নামক নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল। এতে বলা হয়েছিল, প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইকুয়াল অপারচুনিটি সেন্টার’ এবং ‘ইকুইটি কমিটি’ গঠন করতে হবে। কমিটির সদস্যরা তফসিলি জাতি, জনজাতি, অনগ্রসর শ্রেণি, প্রতিবন্ধী ও নারী শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করারও নির্দেশ ছিল। নিয়ম না মানলে প্রতিষ্ঠান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সহ স্বীকৃতি তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে থাকতো।
নতুন বিধি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অসংরক্ষিত শ্রেণিভুক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, এই নির্দেশিকা পক্ষপাতদুষ্ট এবং উচ্চবর্ণের শিক্ষার্থীদের বৈষম্যের শিকার হতে হতে পারে। অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না থাকায় ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে। এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে আদালত আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক ঐক্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ কমিটি পর্যালোচনা শেষ না করা পর্যন্ত ২০১২ সালের বিধি অনুসরণ করতে হবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে।
এই সিদ্ধান্ত ভারতের শিক্ষাঙ্গন ও সমাজে দীর্ঘকালীন প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এটি বর্ণবৈষম্য এবং সমতার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা।
