
আনন্দপুরের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড শহর কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকায় গড়ে ওঠা বেআইনি কারবার ও গুদামঘরগুলোর কঙ্কালসার চেহারাটা আবারও সামনে এনে দিয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ডেকোরেটর ব্যবসায়ীর মালিককে গ্রেপ্তার করলেও, জনপ্রিয় ফুড চেন ‘ওয়াও মোমো’-র মালিক কেন এখনও অধরা, তা নিয়ে শুক্রবার সরব হলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। প্রাতভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।
দিলীপ ঘোষের মূল অভিযোগ হলো আইনের প্রয়োগে পক্ষপাতিত্ব। তিনি বলেন একই ঘটনায় যদি ডেকোরেটর ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হতে পারেন, তবে ওয়াও মোমোর মালিকের ক্ষেত্রে আইন কেন শিথিল? কারণ সেই প্রভাবশালী ব্যক্তি আসলে তৃণমূলের নেতা,পুলিশ এবং প্রশাসনকে টাকা দিয়ে এসেছে। তাই তারা কি করে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে? তাঁর কথায়, “আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, যারা বড় ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী, তারা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছেন।” তাঁর ইঙ্গিত স্পষ্ট—প্রশাসন এখানে প্রভাবশালীদের রক্ষা করতে চাইছে।
আনন্দপুরের ওই এলাকায় যেভাবে বিশাল গোডাউন গড়ে উঠেছিল, তাকে শুরু থেকেই বেআইনি বলে দাবি করেছেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ। দিলীপ বাবুর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও শাসকদলের নেতাদের মদত ছাড়া জনবসতি এলাকায় এমন বিপজ্জনক গুদাম তৈরি হওয়া অসম্ভব। তিনি দাবি করেন, “এত বড় অবৈধ নির্মাণ এমনি এমনি হয়নি আর একদিনেও হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে মাসোহারা বা রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিনিময়েই এই কারবার চলছিল।”প্রশাসনের ভূমিকাকে কটাক্ষ করতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ একটি অভিনব উপমা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “যারা সোনার ডিম পাড়া হাঁস, তাদের কেউ মারে না। বরং যারা সেই হাঁস চরায়, প্রয়োজনে কোপ তাদের ওপরই হয়।বড় ব্যবসায়ীরা হলো সেই হাঁস, যাদের থেকে নিয়মিত সুবিধা নেওয়া হয়। তাই তাদের গায়ে পুলিশ হাত দিচ্ছে না।” তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি পুলিশ-প্রশাসন ও শাসকদলের যোগসাজশের দিকেই আঙুল তুলেছে।
বিজেপি নেতার দাবি, এই ঘটনায় কেবল একজন ডেকোরেটর মালিককে বলির পাঁঠা বানালে চলবে না। যে জমির ওপর এই বেআইনি পরিকাঠামো দাঁড়িয়ে ছিল, সেই জমির মালিক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের আধিকারিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা—প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। আনন্দপুরের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল যে, বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলে প্রশাসনের ঘুম ভাঙে না। এখন দেখার, ভোটের আগে দিলীপ ঘোষের এই অভিযোগের পর প্রশাসন ওয়াও মোমো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদেও কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না, নাকি কেবল চুনোপুঁটিদের ধরেই তদন্তের ইতি টানা হয়।।
