
দেশজুড়ে বাজেট ২০২৬ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লোকসভায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সকাল ১১টায় সাধারণ বাজেট পেশ করবেন। এটি তার টানা নবমবারের বাজেট ভাষণ এবং এক দশকের মধ্যে প্রথমবার রবিবারে বাজেট পেশ হচ্ছে।
বাজেটের আগে ইতিমধ্যেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি নর্থ ব্লকে ঐতিহ্যবাহী ‘হালুয়া সেরেমনি’ অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এরপর ২৯ জানুয়ারি সংসদে পেশ করা হয় ইকোনমিক সার্ভে ২০২৬, যেখানে দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এই বছর বাজেটে বিশেষভাবে নজর রাখা হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), অটোমোবাইল, প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক্স ও ম্যানুফ্যাকচারিং, পরিকাঠামো, রেল ও নগরোন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, লজিস্টিক্স এবং পর্যটন খাতে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেট অধিবেশন দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব শুরু হবে বাজেট পেশের দিনই এবং চলবে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ৯ মার্চ এবং সম্পূর্ণ অধিবেশন শেষ হবে ২ এপ্রিল।
সাধারণ বাজেটের ভাষণ সরাসরি দেখা যাবে সংসদের নিজস্ব চ্যানেল সংসদ টিভি এবং এর ইউটিউব লাইভে। এছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত চ্যানেল ডুরদর্শন, কেন্দ্রীয় বাজেটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং অর্থ মন্ত্রকের সামাজিক মাধ্যমে বাজেট সম্প্রচারিত হবে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)-র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
ইকোনমিক সার্ভে ২০২৬ অনুযায়ী, আগামী অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতি ৬.৮% থেকে ৭.২% হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও মূল্যবৃদ্ধির হারের কিছুটা বৃদ্ধি অনুমান করা হয়েছে, তবু সরকার আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর আশাবাদী। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবর্ষে জিডিপির ৪.৪% আর্থিক ঘাটতি ধরে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই বাজেট ভোটের আগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণদের জন্য রেল ভাড়ায় ছাড় এবং চিকিৎসা-কর লাঘবের মতো সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। দেশের নাগরিকরা আগ্রহের সঙ্গে এই বাজেটের প্রতিটি দিক খেয়াল রাখবেন।
