
আনন্দপুরে ভয়াবহ মোমো কারখানার অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু এবং ২৭ জন নিখোঁজ। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। শনিবার ব্যারাকপুরের আনন্দপুরীর মাঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত অবহেলা। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক এবং তাদের ঘনিষ্ঠদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি।
শাহ আরও বলেন, কারখানার ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকরা আগুনে মারা গেছেন, কিন্তু বাইরে বেরোতে পারেননি। জলাজমির উপর অবৈধভাবে গুদাম তৈরি করা হয়েছিল এবং বাইরে থেকে কারখানাটি বন্ধ ছিল। তিনি রাজ্য সরকারের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে তুলে বলেন, এই ঘটনায় রাজনীতি কেন করা হচ্ছে, লজ্জা পাওয়া উচিত।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, “এই অগ্নিকাণ্ডে আপনার লোকজন জড়িত। যদি পর্দা দিতে চান, দিন। এপ্রিলের পর বিজেপি সরকার আসলে দোষীদের খুঁজে খুঁজে জেলে পাঠানো হবে।” তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীরা দেখা করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু বাধা দেওয়া হয়েছিল।
অমিত শাহের কর্মী সম্মেলনে উত্তর ২৪ পরগনা ও বনগাঁ, বারাসত, ব্যারাকপুরের বিজেপি কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিনের সভা শেষে তিনি কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে বাগডোগরার উদ্দেশে রওনা দেবেন। বিকেলে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কর্মীদের সঙ্গে আরও একটি সভা করবেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য প্রশাসনের কার্যকারিতা এবং দায়মুক্তি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি প্রদানের দাবি অমিত শাহের বক্তব্যের মূল বক্তব্য। সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় শোকাহত এবং দ্রুত ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে।
