
দৃষ্টি কুন্ডু
সবই কি প্ল্যান মাফিক? আচ বুঝতে পেরেই কি ভারতকে সতর্ক করেছিলেন আসিম মুনির? ভারতে জইশ-ই মহম্মদের সক্রিয় জঙ্গি প্রবেশ, তার আগে মুনিরের সতর্কতা! তবে কি এবার দুই এ দুই এ চার মিলে যাবে? আশঙ্কাই সত্যি হলো! মুনিরের পদোন্নতি পাকিস্তানের সামরিক রীতি ও প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় কোন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে!
বিগত দিনে ভারত পাকিস্তানের সম্পর্ক বিশ্বের মানুষ দেখেছে। পহেলগাঁও হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ক্ষমতা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরে ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের স্থল বাহিনী প্রধান থেকে তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক পদ পান তিনি। পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী এই পদটি নতুন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যা তিন বাহিনীর প্রধানের উপর সর্বোচ্চ ক্ষমতা বহন করে।
মুনির ভারতের নাম না করে সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ভবিষ্যতে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বড় ধরনের রূপান্তরের পথ বেছে নিয়েছে। সব ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখন্ডতা রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা হবে । তিনি আরোও বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তি শারীরিক সক্ষমতার বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সামরিক অভিযানের ধরন ও মৌলিকভাবে বদলে ঘটবে। তাই পাকিস্তানি সেনা দ্রুত প্রযুক্তি গ্রহণ ও উদ্ভাবন করছে।
মুনিরের এই মন্তব্যের পরেই জম্মু-কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার এলাকায় জইশ-ই মহম্মদের সক্রিয় জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া গিয়েছে। খবর পাওয়ার পর থেকেই জায়গায় জায়গায় চিরুনি তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় সেনা। সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান মদত পুষ্ট জঙ্গিরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং নিরাপত্তারক্ষীরা তৎক্ষণাৎ তাদের খুঁজে বের করতে গ্রামাঞ্চলের কোনায় কোনায় অভিযান চালাচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে বারামুলার সিংহপোড়া, কিশ্তওয়ারে ছত্রু ও চিংগম এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জঙ্গীরা নিজেদের মধ্যে কোন যোগাযোগ করতে পারবে না।
তবে অনুমান করা হচ্ছে, ছত্রু এলাকায় জঙ্গিরা লুকিয়ে থাকতে পারে। নিরাপত্তা রক্ষীরা সেই মতোই তল্লাশি চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি অভিযান চলাকালীন সাধারণ মানুষ যেন কোন সমস্যায় না পড়ে, সেই দিকও দেখা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মুনিরের এই পদোন্নতি পাকিস্তানের সামরিক নীতি ও প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা দৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলিকে তাদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলেও মনে করা হচ্ছে । আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে মুনিরের মন্তব্য।
