
রাজ্যের বঙ্গ বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষ-এর রাজনৈতিক সম্পর্ক ভোটকে সামনে রেখে নতুন মোড় নিয়েছে যেখানে পুরনো বিরোধ কমে গিয়ে দুই নেতা একে অপরের প্রতি বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন বলে দলের অভ্যন্তর থেকে জল্পনা শুরু হয়েছে।
দিলীপ ঘোষ দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম প্রবীণ নেতা। যদিও বর্তমানে তিনি কোনো দলীয় পদে নেই, তবুও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তাঁর প্রভাব চোখে পড়ার মতো। অপরদিকে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসে রাজ্য নেতৃত্বে উঠে আসা একজন প্রভাবশালী নেতাও বটে, তিনি বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
দলের অভ্যন্তরে সবসময়ই দুই নেতার সম্পর্ক ‘মধুর’ বলে শোনা গেছে। প্রকাশ্যে তারা তর্কে খুব কমই জড়ান, কিন্তু নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চাপ ও দলকে একত্রিত করার প্রয়াসে তাদের মধ্যে দূরত্ব আরও কমতে দেখা যাচ্ছে।
গত ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি দুর্গাপুরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির কর্মসূচিতে একই মঞ্চে কণ্ঠ মিলিয়েছে দুজনই। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী বিশেষ বার্তায় দিলীপ ঘোষকে ‘বর্ষীয়ান নেতা’ হিসেবে উঠিয়ে আছেন, যা দলের কর্মীদের মনে করে দুই নেতার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কমে এসেছে।
শুভেন্দু তাঁর ভাষণে দিলীপকে ‘দিলীপ দা’ বলে ডাকেন এবং তাঁর সাংসদ-পদে আক্রান্ত হওয়া প্রসঙ্গে স্মরণও করেন ঐতিহাসিক ঘটনাকেও স্বাগত জানিয়েছেন।
দলের অভ্যন্তরীণ এক সূত্রের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের একটি ঐক্যবদ্ধ চেহারা দেখাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিশেষ জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু ও দিলীপের কাছাকাছি আসা রাজনৈতিক ধারা BJP-র অভ্যন্তরে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, যা ভোট প্রচারের সময় দলের শক্তি হিসেবে কাজে লাগতে পারে।
