
নিপা আক্রান্ত দুই নার্সের শারীরিক অবস্থার উন্নতি।
তবে ভেন্টিলেশন থেকে বার করা হলেও, এখনই সংকট মুক্ত নন তারা। সম্প্রতি নিপায় আক্রান্ত হয়ে একজন মহিলা নার্সকে বারাসাত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই কোমায় চলে যান তিনি। অবশেষে তাকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করা হলো, হাসপাতাল সূত্রে খবর। স্বাস্থ্যের উন্নতি হলেও বিপদ এখনো কাটেনি এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে নিপায় আক্রান্ত পুরুষ নার্সের শারীরিক অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল। আপাতত বাড়িতেই আইসোলেশনে থাকবেন তিনি এমনটাই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে।
চলতি মাসের শুরুতে নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল রাজ্যে। দুজন নার্সের সংক্রমিত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দপ্তর। নিপা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়। যারা যারা এই দুজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন মোট ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যদিও কারো শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
নিপা ভাইরাসের সংক্রমিত হওয়ার পর থেকেই বারাসাতের হাসপাতালে দুই নার্সের চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিপা আক্রান্ত মহিলা নার্স উঠে বসতে পারলেও তিনি চোখ খুলতে পারছেন না। তাই কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে। এদিকে পুরুষ নার্সকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে বাড়িতেই আইসোলেশনে রাখা হবে এবং পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে ধরে নেওয়া যায়, নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত আতঙ্ক এখন কিছুটা হলেও কমেছে। কারণ রাজ্যের বন বিভাগ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি মিলিয়ে মোট ৯ টা বাদুর ধরা হয়েছিল। প্রতিটি বাদুরের শরীর থেকে তিন ধরনের সোয়াব নিয়ে RT-PCR টেস্ট করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, কোন বাদুড়ের শরীরে নিপা ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়নি অর্থাৎ নেগেটিভ। তবে একটি বাদুড়ের শরীরে নিপার উপস্থিতি অতীতে বহন করার অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছে। তবে বর্তমানে কোন বাদুড়ের শরীরেই এই ভাইরাসের উপস্থিতি নেই। এদিকে বাদরের রিপোর্ট নেগেটিভ আশায় ও নার্সদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় রাজ্যে আতঙ্কের পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে। তবে সতর্ক রয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর ।
