
করোনা ভাইরাসের মহামারি পুরোপুরি কাটতে না পারলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (ECDC) সম্প্রতি নতুন দুইটি ভাইরাসকে কেন্দ্র করে সতর্ক করে দিয়েছে। গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা D ভাইরাস ও ক্যানাইন করোনাভাইরাস ভবিষ্যতে মানুষের মাঝেই রোগ ছড়িয়ে আরও বড় সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
ইনফ্লুয়েঞ্জা D ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০১১ সালে এবং প্রধানত শূকর ও গবাদি পশুর শরীরে থাকে। যদিও এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা A, B বা C-র মতো সাধারণ ফ্লু তৈরি করে না, গবেষণায় দেখা গেছে ভাইরাসটি কঠিন পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে এবং সংস্পর্শ বা বাতাসের সঙ্গে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে।
অন্যদিকে ক্যানাইন করোনাভাইরাস মূলত কুকুর, বিড়াল ও বন্য পশুর শরীরে পাওয়া যায়। এই ভাইরাস সাধারণত পশুদের মধ্যে ডায়রিয়া বা পেটের সমস্যা দেয়, কিন্তু এর নতুন স্ট্রেনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে এটি মানুষের শরীরে ঢুকে সংক্রমণ ঘটানোর ক্ষমতা অর্জন করেছে। SARS-CoV-2 (কোভিড-১৯) যেমন β-করোনাভাইরাস থেকে এসেছে, তেমনি ক্যানাইন করোনাভাইরাস হল α-করোনাভাইরাস, যা নতুন রূপে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই এই দুটি ভাইরাসের সম্ভাব্য প্রভাব ও বিস্তার নিয়ে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যদিও এখনই আতঙ্ক ছড়ানোর প্রয়োজন নেই, তবে এই ভাইরাসগুলোতে পর্যাপ্ত গবেষণা, নজরদারি ও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো নতুন মহামারির সৃষ্টি না হয়।
গবেষকদের মতে, গত চার দশকে অন্তত ১৮টি নতুন প্যাথোজেন শনাক্ত হয়েছে, যা দেখাচ্ছে যে ভবিষ্যতে এমন আরও রোগজনিত বিপদ দেখা দিতে পারে। তাই সময়েই প্রস্তুতি নেওয়া ও সতর্ক থাকা জনগণ ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
