
কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের দিনই বড়সড় ধাক্কা খেলেন শহরের ব্যবসায়ীরা। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৪৯ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে কলকাতায় একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১,৮৯৩ টাকা ৫০ পয়সা, যা গতকাল পর্যন্ত ছিল ১,৮৪৪ টাকা ৫০ পয়সা। অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলো (OMCs) প্রতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজার ও ডলারের বিনিময় হারের ওপর ভিত্তি করে যে মূল্য সংশোধন করে, তারই অংশ হিসেবে এই বৃদ্ধি।
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের এই দাম বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলবে শহরের হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ক্যাটারিং শিল্পের ওপর। গত মাসেও ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছিল। পরপর দু-মাস দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীদের পরিচালন খরচ (Operational Cost) অনেকটাই বেড়ে গেল। ছোট এবং মাঝারি মাপের রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, জ্বালানি খরচ বাড়লে খাবারের দাম বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা পাইকারি হারে খাবার সরবরাহ করেন বা ছোট খাবারের দোকান চালান, তাদের জন্য এই ৫০ টাকার বৃদ্ধি লাভের অঙ্কে বড় থাবা বসাবে।
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে চাপ বাড়লেও সাধারণ মানুষের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর শুনিয়েছে তেল সংস্থাগুলো। গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কলকাতায় বর্তমানে একটি ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৮৭৯ টাকা। গত কয়েক মাস ধরেই এই দাম স্থিতিশীল রয়েছে, যা মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও সাধারণ ভোটার ও আমজনতার কথা মাথায় রেখে নির্বাচনের আগের বাজেটে গৃহস্থের গ্যাসে হাত দেয়নি কেন্দ্র। আজ কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের দিনে সবার নজর ছিল অর্থমন্ত্রীর দিকে। বিশেষ করে ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’ বা সাধারণ গৃহস্থালির গ্যাসে নতুন করে কোনো ভর্তুকির ঘোষণা আসে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। যদিও প্রাথমিক তথ্যে ডোমেস্টিক গ্যাসের দামে কোনো বদল আসেনি, তবে দীর্ঘমেয়াদী ভর্তুকি নীতি বা জ্বালানি আমদানির ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে বিশেষজ্ঞরা।
মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের ওঠা-নামা এবং লজিস্টিক বা পরিবহন খরচের পরিবর্তনের কারণেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম গত দুই মাসে যেভাবে বেড়েছে, তাতে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি বাজারদরের ওপর পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
কলকাতার ব্যবসায়ীদের একাংশ মনে করছেন, বাজেটের দিনই এই দাম বৃদ্ধি পর্যটন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পরবর্তী ঘোষণায় জ্বালানি খাতে কোনো বিশেষ ছাড় বা সহায়তার ব্যবস্থা থাকে কি না।।
