
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-এর ভূয়সী প্রশংসা করে একে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে বর্ণনা করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোস। আজ রাজভবন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই বাজেট কেবল স্থিতিশীল নয়, বরং এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও আধুনিক ভারতের প্রতিফলন। রাজ্যপালের মতে, এই বাজেটের মূল কেন্দ্রে রাখা হয়েছে সাধারণ নাগরিককে, যা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথে দেশকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি একে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একটি ‘ধনভাণ্ডার’ বা ‘ট্রেজার হাউস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রাজ্যপাল বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন যে, রেল, বন্দর এবং নৌ-যোগাযোগের মতো পরিকাঠামো ক্ষেত্রে যে বিপুল বরাদ্দ করা হয়েছে, তা কর্মসংস্থানের হাজারো সুযোগ তৈরি করবে। এই বাজেট কেবল চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা তৈরির ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে। ডিজিটাল পরিষেবা, স্টার্টআপ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির (Skill Training) ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, ভারতের যুবশক্তিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করাই এই বাজেটের লক্ষ্য। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই (MSME) সেক্টরের জন্য যে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে, তা ভারতের উৎপাদন ও পরিষেবা শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেবে।
রাজ্যপালের মতে, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোকে সবথেকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন এবং কৃষির মতো বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর দেওয়ার ফলে গ্রামীণ ভারতের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তিনি বলেন, কৃষি এবং গ্রামীণ উন্নয়নের এই রূপরেখা প্রমাণ করে যে সরকার সাধারণ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়ে কতটা সচেতন। সাধারণ নাগরিকদের এই ক্ষেত্রগুলোতে আরও বেশি করে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলার প্রেক্ষাপটে এই বাজেটকে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে দাবি করেছেন রাজ্যপাল। তিনি জানান, পরিবহন ব্যবস্থা এবং নগরোন্নয়নের কাজে পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ সহায়তা পেতে চলেছে। বিশেষ করে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগের উন্নয়নে বড়সড় ঘোষণা বাংলাকে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করবে। বাংলার যুবসমাজের জন্য বস্ত্রশিল্প, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা এ রাজ্যে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। এছাড়া গ্রিন সেক্টর বা পরিবেশবান্ধব শক্তি প্রকল্পের সম্প্রসারণেও বাংলা বিশেষ তহবিল পাবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে বাংলার জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রসঙ্গের প্রশংসা করেন রাজ্যপাল। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজ্যে নতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে এই বাজেট বড় ভূমিকা নেবে। পরিশেষে রাজ্যপাল বলেন, এই বাজেট আসলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এক গঠনমূলক সহযোগিতার প্রতিফলন। কেন্দ্র ও রাজ্য হাত মিলিয়ে কাজ করলে বাংলার মানুষের কাছে এই বাজেটের সুফল আরও দ্রুত পৌঁছাবে এবং পশ্চিমবঙ্গ একটি সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সালের এই কেন্দ্রীয় বাজেট কেবল অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের খতিয়ান নয়, বরং রাজ্যপালের দৃষ্টিতে এটি এক সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভর ভারতের ব্লুপ্রিন্ট। একদিকে যেমন পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল বিপ্লবের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ বিকাশের ওপর জোর দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই বাজেটকে ‘ধনভাণ্ডার’ হিসেবে বর্ণনা করে রাজ্যপাল কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সহযোগিতার ওপর যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তা বাংলার ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রগতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার এই মেলবন্ধন দেশকে বিশ্ব অর্থনীতির মঞ্চে এক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলেই আশা রাখা যায়।।
