
চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে দেশে কার্যকর হতে চলেছে নতুন আয়কর আইন। রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট ভাষণ দিতে গিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নতুন আইনটির মূল লক্ষ্য করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা, অযথা ভয় ও জটিলতা কমানো এবং স্বচ্ছ কর ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।
নতুন আয়কর আইনে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনটি আসছে, তা হল আয়কর রিটার্ন সংশোধনের সুযোগ। এতদিন রিটার্ন জমা দেওয়ার পর ভুল হলে করদাতাদের ভোগান্তির শেষ থাকত না। এবার সেই জায়গায় বড় স্বস্তি। সামান্য একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক জমা দিলেই আয়কর রিটার্ন সংশোধন করা যাবে। ফলে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় জড়াতে হবে না সাধারণ মানুষকে।
এছাড়াও রিটার্ন জমার সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে চাকরিজীবী, স্বনিযুক্ত এবং ছোট ব্যবসায়ীদের বাড়তি সময় পাওয়া যাবে হিসাব গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। বিশেষ করে যাঁরা শেষ মুহূর্তে নথি জোগাড় করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত কার্যত বড় স্বস্তি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নতুন আইনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ছোটখাটো আয়কর ফাঁকির ক্ষেত্রে শাস্তির ধরণে পরিবর্তন। সামান্য গরমিল বা অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য আর জেল হবে না। তার বদলে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এতে করদাতাদের মধ্যে ভয় কমবে এবং স্বেচ্ছায় কর দেওয়ার প্রবণতা বাড়বে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই নতুন আয়কর আইন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত করদাতাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। সরকারের লক্ষ্য, কর ব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও বাস্তবমুখী করে তোলা। এখন দেখার, বাস্তবে এই নতুন নিয়ম কতটা স্বস্তি এনে দেয় সাধারণ করদাতাদের জীবনে।
