
ভারতের প্রযুক্তি ও শিল্প উন্নয়নের পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে ঘোষণা হল ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই নতুন মিশনে সেমিকন্ডাক্টর খাতে শিল্প-নেতৃত্বাধীন গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত চাহিদা পূরণ এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই মিশনকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর মিশনের গতি বজায় রাখতে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এই বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে চিপ ডিজাইন, উৎপাদন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করে তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলাই এই মিশনের অন্যতম লক্ষ্য।
অর্থমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতিতে কৃত্রিম মেধা বা এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সেই কারণে সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০-এর আওতায় স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং শিল্প উৎপাদন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নই নয়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিরও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর খাতে এই উদ্যোগ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে চিপ সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারত ধীরে ধীরে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর মানচিত্রে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
সার্বিকভাবে, এই মিশন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং দক্ষতার সমন্বয়ে ভারতের ডিজিটাল ভবিষ্যৎকে আরও মজবুত করার পথে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
