
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-কে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ‘উপহারের ঝুলি’ হিসেবে বর্ণনা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার বাজেট পেশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নন্দীগ্রামের বিধায়ক দাবি করেন, এই বাজেট কেবল দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে না, বরং বাংলার শিল্প ও কর্মসংস্থানের বন্ধ দরজাগুলোকেও খুলে দেবে। তাঁর মতে, গতবার বিহার যেমন কেন্দ্রীয় আনুকূল্য পেয়েছিল, এবার পশ্চিমবঙ্গও সমানভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, ভারতবর্ষের জনসংখ্যার সিংহভাগই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত। এই বিশাল অংশের মানুষের কথা মাথায় রেখে ৩১ জুলাই পর্যন্ত আয়কর জমা দেওয়ার সুবিধা এবং কর ব্যবস্থার সরলীকরণ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পাশাপাশি ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের মতো মরণব্যাধির জীবনদায়ী ওষুধের দাম কমানোর সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানান। তাঁর মতে, এর ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কমবে।
বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক বড় প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান বিরোধী দলনেতা। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন শিলিগুড়ির জন্য প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন প্রকল্পের কথা। উত্তরবঙ্গের যাতায়াত ব্যবস্থায় এটি আমূল পরিবর্তন আনবে বলে তাঁর বিশ্বাস। এছাড়া শিল্পায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত ফ্রেড করিডর এবং দুর্গাপুরে বিশেষ শিল্প করিডর তৈরির ঘোষণা বাংলার ঝিমিয়ে পড়া শিল্পে প্রাণ ফেরাবে। শুভেন্দুর কথায়, “রাজ্যে প্রায় ৬,৮৮৮টি শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যা কর্মসংস্থানের শ্মশানে পরিণত হয়েছিল। কেন্দ্র এবার সেই দিকেই নজর দিয়েছে, কারণ শিল্প ছাড়া কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব নয়।
গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং জল জীবন মিশন প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রশংসা করেন শুভেন্দু। কৃষকদের জন্য সারে ভর্তুকি এবং কিষাণ নিধি যোজনার বরাদ্দ বৃদ্ধি গ্রামীণ ভারতের ভিত শক্ত করবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ‘লাখপতি দিদি’ বানানোর কর্মসূচিকে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে তিনি দাবি করেন। যুবসমাজের জন্য ব্যবসা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও স্টার্টআপে জোর দেওয়ার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
বাজেটের সুফল ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের ২১টি রাজ্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল পেলেও পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত। তাঁর দাবি, এ রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত, বিশ্বকর্মা যোজনা বা প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার মতো জনহিতকর প্রকল্পগুলো চালু করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পিএম কিষাণ নিধির জন্য যোগ্য চাষিদের নামও পাঠানো হচ্ছে না বলে তিনি সরব হন।
আসন্ন এপ্রিল মাসের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে রাজ্যবাসীকে তিনি অনুরোধ করেন, এই জনমুখী বাজেটের সুফল পেতে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের পূর্ণ সুযোগ নিতে রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার অর্থাৎ বিজেপিকে সংখ্যাধিক্যে জয়ী করা প্রয়োজন। শুভেন্দুর মতে, কেন্দ্র ও রাজ্য একযোগে কাজ করলেই বাংলার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।।
