
বাংলাদেশে ভোর রাতে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ১৫০ কিমি গভীরে সংঘটিত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এই ভূমিকম্পের ঘটনায় দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পের অবস্থান ছিল ২২.৮৪ অক্ষাংশ ও ৮৯.০১ দ্রাঘিমাংশে।
বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময়ই উচ্চ। দেশটি তিনটি টেকটোনিক প্লেট, ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা, এর সংযোগস্থলে অবস্থিত। এছাড়া দেশজুড়ে মোট পাঁচটি প্রধান ফল্ট জোন রয়েছে, যেমন বগুড়া ফল্ট, ত্রিপুরা ফল্ট, শিলং মালভূমি, ডাউকি ফল্ট ও আসাম ফল্ট জোন। এই জোনগুলো ভূমিকম্পের প্রবণতা বাড়ায়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল এবং সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকায় ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
বিশ্বব্যাপী প্রতি ৩০ সেকেন্ডে কোথাও না কোথাও ভূমিকম্প হয়। তবে এর অধিকাংশই এত দুর্বল হয় যে তা মানুষ অনুভব করতে পারে না। ৪.০ মাত্রার ভূমিকম্প প্রায় ৬ টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমান শক্তি নিঃসরণ করে। রিখটার স্কেলে লগারিদমিক বৃদ্ধি হওয়ায় মাত্রা বেড়ে ৫.০ হলে শক্তি ২০০ টন, ৭.০ হলে ১,৯৯,০০০ টন এবং ৯.০ হলে প্রায় ৯৯ কোটি টন টিএনটির সমান শক্তি প্রকাশ পায়।
ঢাকা বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ শহরের মধ্যে অন্যতম এবং এটি ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ঢাকা শহরে ৩০,০৯৩ জন মানুষ বসবাস করে। ভূমিকম্পের ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
NCS সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং ভূমিকম্প সংক্রান্ত নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করতে পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ভবন নির্মাণ ও অস্থায়ী স্থাপনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা জরুরি। বাংলাদেশে ভূমিকম্পের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
বাংলাদেশে ভূমিকম্পের এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রতিনিয়ত দেশটির জন্য ঝুঁকি বহন করছে। মানুষকে সচেতন থাকতে এবং জরুরি প্রস্তুতি নিতে হবে।
