
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবার নতুন ইস্যু তোলা হয়েছে, সীমা খান্না নামটি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুইজনের মুখেও একই নাম শোনা যাচ্ছে, আর তা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রশ্ন আর বিতর্ক।
দিল্লিতে অবস্থানকালে নির্বাচন কমিশন অফিসের বাইরে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, খসড়া ভোটার তালিকা বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বলেন, “এটি AI ব্যবহার করে সীমা খান্না করেছেন। উনি নির্বাচন কমিশনের কেউ নন, বরং ‘বিজেপির IT সেলের’ সঙ্গে যুক্ত।” এই মন্তব্যই সীমা খান্নাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। জানা গেছে, তিনি নির্বাচন কমিশনের তথ্য প্রযুক্তি শাখায় ডিআইজি পদে রয়েছেন বলে আগে থেকেই বলা হচ্ছিল। তৎক্ষণাত তথ্যের ভিত্তিতে অভিষেক জানান, সার্কাশনের অ্যাপে গোলযোগ আছে এবং সে বিষয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে স্ক্রিনশট জমা দেবার কথা বলেছেন।
SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই সীমা খান্না বাংলায় এসেছিলেন বলে শোনা গিয়েছে এবং তাঁর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) অধীনে NISG‑র উপ-মহাপরিচালক ও অপারেশনস ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেন এবং ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সীমা খান্না বিহারের বাসিন্দা, MeitY‑ অধীনে বিভিন্ন আইটি নীতি তৈরি ও সাইবার নিরাপত্তা‑সম্পর্কিত প্রশিক্ষণে যুক্ত থেকেছেন। তিনি কোভিডকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য আরোগ্য সেতু অ্যাপ তৈরি করেও কাজ করেছেন। শিক্ষা-wise, তিনি পাটনার নেতাজি সুভাষ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে স্নাতক এবং দিল্লির একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন।
রাজনৈতিক ইস্যুতে এই নতুন নামটি এখনো মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি করেছে, বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়ে।
