
আগেকার দিনে যখন আজকের মতো নামী-দামী পার্লার বা ফেসিয়াল করার এত প্রচলন ছিল না, তখন কি বাড়ির মেয়েরা রূপচর্চা করতেন না? অবশ্যই করতেন। আমাদের মা-ঠাকুমাদের আমলেও অন্দরমহলের রূপটান ছিল পুরোপুরি প্রকৃতি নির্ভর। রান্নাঘরের চালের গুঁড়ো, কাঁচা দুধ কিংবা বাগান থেকে তুলে আনা অ্যালোভেরা দিয়েই তাঁরা ধরে রাখতেন ত্বকের তারুণ্য। বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে যে কোরিয়ান ‘গ্লাস স্কিন’-এর জয়জয়কার, তার মূল রহস্যও লুকিয়ে আছে সেই প্রাকৃতিক যত্নেই। গ্লাস স্কিন মানে হলো এমন এক ত্বক যা হবে কাঁচের মতো স্বচ্ছ, দাগহীন এবং ভেতর থেকে উজ্জ্বল। কৃত্রিম প্রসাধনী এড়িয়ে খুব সহজেই সাধারণ কিছু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে আপনিও পেতে পারেন এমন ঈর্ষণীয় ত্বক।
প্রয়োজনীয় ঘরোয়া উপকরণ
কোরিয়ান রূপচর্চার প্রধান স্তম্ভ হলো চালের জল বা চালের গুঁড়ো। এটি ত্বক উজ্জ্বল করতে এবং কোলাজেন বাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে। ত্বককে হাইড্রেটেড বা আর্দ্র রাখতে অ্যালোভেরা জেল এবং ত্বক নরম ও দাগহীন করতে মধুর জুড়ি নেই। এছাড়া প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাঁচা দুধ, টোনার হিসেবে শশার রস বা গ্রিন টি এবং দাগ ছোপ দূর করতে সামান্য লেবুর রস অত্যন্ত কার্যকর। আর ত্বকের মৃত কোষ সরাতে প্রাকৃতিক স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায় চিনি।
ক্লিজিং(Cleaning):
রূপচর্চার প্রথম ধাপ হলো ত্বক পরিষ্কার করা। তুলোয় কিছুটা কাঁচা দুধ নিয়ে সারা মুখে আলতো করে মুছে নিন। কাঁচা দুধ ত্বকের গভীরে গিয়ে ময়লা পরিষ্কার করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল আভা দেয়।
প্টোনিং (Toning):
মুখ ধোয়ার পর টোনার হিসেবে ব্যবহার করুন গাঁজানো চালের জল (Fermented Rice Water)। চাল ধোয়া জল সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরের দিন স্প্রে বোতলে ভরে মুখে ব্যবহার করুন। এছাড়া গ্রিন টি লিকার ঠান্ডা করে টোনার হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বক শান্ত ও সতেজ থাকে।
গ্লাস স্কিন ফেস মাস্ক (Face Mask):
একটি পাত্রে দুই চামচ চালের গুঁড়ো, এক চামচ মধু এবং এক চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। এটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে এলে হালকা হাতে মাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্কটি ত্বককে মসৃণ ও টানটান করে তোলে।
ময়েশ্চারাইজিং (Moisturizing):
সব শেষে ত্বককে আর্দ্র রাখা সবচেয়ে জরুরি। হালকা কোনো ময়েশ্চারাইজার বা সামান্য অ্যালোভেরা জেল মুখে মেখে নিন। এটি ত্বকের ভেতরে জলীয় ভাব ধরে রাখে, যা গ্লাস স্কিন পাওয়ার প্রধান শর্ত।
কোরিয়ান গ্লাস স্কিন পাওয়া কেবল নামী ব্র্যান্ডের সিরাম বা ক্রিমের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি একটি জীবনশৈলী। সপ্তাহে অন্তত ১-২ বার চিনি ও মধু দিয়ে স্ক্রাব করলে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয়। তবে মনে রাখবেন, বাইরের চাকচিক্যের পাশাপাশি ভেতর থেকে সুস্থ থাকাও জরুরি। তাই প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন এবং পুষ্টিকর খাবার ,টাটকা ফল আর রোজের ডায়েটে রাখুন প্রচুর শাকসব্জি।তার পাশাপাশি আমাদের চিরচেনা ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো যখন আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে হাত মেলায়, তখনই ত্বক হয়ে ওঠে কাঁচের মতো স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত। আর প্রাণখোলা হাসি থাকলে সৌন্দর্য এমনিতেই বেড়ে যায়। সাথে চাই একটু ধৈর্য আর নিয়মিত যত্ন নিলেই আপনার আয়নার প্রতিচ্ছবি কথা বলবে গ্লাস স্কিনের ভাষায়।।
